সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন যাপনে ও দীর্ঘায়ু পেতে করণীয়

 সুস্থ থাকতে মানুষ কিনা করছে। শরীর চর্চা থেকে শুরু করে অপারেশন পর্যন্ত। আসলে মানুষ সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে চায়। তবে সুস্থভাবে অনেকদিন বেঁচে থাকার জন্য এতকিছু করার প্রয়োজনই নেই। যে জিনিসটা করা প্রয়োজন হল আমাদের দৈনন্দিন রুটিন টা পরিবর্তন করা। সমান্য কিছু সচেতনাই পারে আমাদের সুস্থ রাখতে ও পারেন দীর্ঘদিন বাচতে।


একটা গল্প বলি, জাপানের নাগানো অঙ্গল খুবই শীতপ্রবন। পূর্বে এই এলাকার মানুষ খুব কম সময় বাচতো। দীঘ সময় বরফ পড়তো এই এলাকায় তাই সবজি চাষ করতে সমস্যা হত তাই তারা সবজি কে আচাড় করে রাখতো বা সবজি সুপ করে খেতো। তবে এই এলাকায় অধিক মূত্যুর কারনে তারা সিন্ধান্ত নিল তারা দীর্ঘদিন বাচবে, তারা বলল আমরা আন্দন্দের সাথে দীর্ঘদিন বাচবে আর মারা যাব খুব আরাম করে, এখন প্রশ্ন হয় তা কিভাবে। তারা তাদের সমস্যা খুজতে শুরু করলো। তারা দেখল যে তাদের খাদ্যে আতিরিক্ত লবন থাকে তারা এ নিয়ে অনেক গবেষনা করে ও কম লবন দিয়ে কিভাবে আচাড় বা রান্না করতে হয় তা প্রতি ঘড়ে ঘড়ে শেখানো হল। আর শীতে সময় বরফ এর সময় হাটার সমস্যার জন্য তারা ট্রেনের মত দেখতে উপর দিয়ে ঢাকনা যুক্ত রাস্তা তৌরি করে হাটার জন্য এবং হাটতে যেন বিরক্ত না লাগে তাই তারা হাটার রাস্তার পাশে সুন্দর সন্দর বাগান তৌরি করলো। এর পর তারা নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম করতে শুরু করলো, যুবক থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সকলেই। যারা চাকুরি থেকে অবসর পেত তারাও বাড়িতে বিভিন কাজ করে সময় কাটাতো। এভাবেই তারা সল্পআয়ুর মানুষ থেকে দীর্ঘ আয়ুর মানুষ হয়ে উঠলো।

সুস্থ থাকতে ও বেশিদিন বাচতে যা করবেন:-

১. ঠিক মতো ঘুমান

দিনে ঠিক কতোটুকু সময় ঘুমাচ্ছেন এবং সেই ঘুম কেমন হচ্ছে সেটা সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্যে খুব গুরুত্বপূর্ণ। খুব বেশি ঘুম যেমন খারাপ তেমনি খারাপ অল্প ঘুমও। যেমন একটা ব্যাটারিকে পুরোপুরি চার্জ দেওয়া হয়। রাতে ঠিক সময় মত ঘুমাতে যান ও ভোর বা সকালে ঘুম থেকে উঠে পড়ুন, অতিরিক্ত সময় বিছানায় অলাস্য সময় কাটাবেন না।

২. হাঁটাচলা করুন

যারা এক শতাব্দী কাল ধরে বেঁচে আছেন তারা প্রচুর হেঁটেছেন। আপনার যদি কায়িক পরিশ্রম কম হয় তাহলে  সারাদিনে অন্তত কিছুটা সময় হাটুন। সারাদিনে ৩০মিনিট হাঁটলেই তা আপনার শরীরের পক্ষে খুবই উপকারী হবে। মানসিক পরিশ্রম আর কায়িক পরিশ্রম কিন্তু এক নয় তাই মানসিক পরিশ্রম করেই বসে পড়বেন না সাথে একটু কায়িক পরিশ্রমও করুন।

 

৩. আপনার লিভারকে একটু বিশ্রাম দিন

পরিমান মত পানি পান করুন, অতিমাত্রায় চিনি যুক্ত খাবার পরিহার করুন। প্রয়োজন ছাড়া বা ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অযথা অসুধ খাবেন না।অতি মাত্রায় দুশ্চিন্তায় থাকলে খাবার খাবেন না তখনই খাবার খাবেন না। প্রতিদিন একটু করে কফি খেতে পারেণ।

৪. আপনার জিন সম্পর্কে জানুন

আপনার পরিবারের বা বংশের অন্যান্য সদস্যদের অসুখ বিসুখের ইতিহাস জানা থাকলে সেটা আমাদেরকে সুস্থ ও সুন্দর জীবন যাপন করতে সাহায্য করতে পারে। কারন কিছু কিছু অসুস্থতা বংশানুক্রমিক ভাবেও হতে পারে। তাই আগে থেকে এ সকল রোগ সম্পর্কে জানতে পারলে বেশি সর্তকতা অবলম্বন করা যায়।

৫. কার্বোহাইড্রেটের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে

সবসময় রিফাইন বা মসৃণ কার্ব না খেয়ে বরং একটু জটিল ধরনের (মোটা আটার) কার্ব খাওয়ার কথা বলা হয়। যেমন বাদামী চাল, আস্ত শস্য দানা সমেত মোটা আটার রুটি।

৬. প্রতিদিন হাসুন

আমাদের মানসিকতার একটা পরিবর্তন প্রয়োজন,  ইতিবাচক মনোভাব খুবই গুরুত্বপূর্ণ।  এমন কিছু করুণ যা প্রতিদিন আপনাকে হাসিখুশি রাখবে এবং নেতিবাচক চিন্তা ভাবনা পরিহার করুন।

৭. চাপমুক্ত থাকার রাস্তা খুঁজে বের করুন

এটা খুবই ব্যক্তিগত। একেকজনের বেলায় একেক রকমের,  কারো চাপ পরিবার নিয়ে, কারো বা চাকরি নিয়ে, একেক জনের একেক রকম চাপ। চেষ্টা করুন সমস্যা বা চাপ মুক্ত থাকার। কোন গোড়ামি আকড়ে ধরবেন না, হোক সে পারিবারিক, সামাজিক বা ধর্মীয়। নিজের কাজ ও পরিবার নিয়ে খুশি থাকতে চেষ্টা করুন, পরিবারে সময় দিন। তবে সমস্যায় দীর্ঘদিন আটকে থাকলে বা জটিল হলে বিশেষগ্যদের পরামর্শ নিন।

৮. শরীর চর্চা

সম্ভব হলে প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠুন ও একটু শরীর চর্চা করুন। এতে শরীর যেমন ভাল থাকবে তেমনি মনটাও ফুরফুরা লাগবে সাথে দিন টাও ভাল যাবে।

৯. খাদ্যঅভ্যাস

তার চেয়ে ২০ ভাগ খাবার কম খাবেন৷ এতে জীবনীশক্তি বেড়ে রক্তচাপ, কোলেস্টোরেল এবং ডায়বেটিসের ঝুঁকি কমবে৷ যে কারণে লবণ কম খাবেন:

রান্নায় বা খাবারে অতিরিক্ত লবণ শরীরের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে রক্তের চাপকে বাড়িয়ে দেয় তাই অতিরিক্ত লবন খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

প্রতিদিন ফলমুল বা সবুজ শাক-সবজি রাখুন খাবার মেনুতে। পরিমান মত পানি পান করুন।

প্রশিক্ষণ কি / প্রশিক্ষণ এর ধারণা

 প্রশিক্ষণ হচ্ছে একটি পরিকল্পিত কার্যক্রম। প্রশিক্ষণ গ্রহণের ফলে প্রশিক্ষণার্থীদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

প্রশিক্ষন হচ্ছে এক প্রকার শিক্ষন পদ্ধতি, যেটা হাতে কলমে শেখানো হয়।




কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি


কর্মী নিয়োগ পদ্ধতি কয়েকটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন হয়।


যেমন:- 

১. বিঙ্গাপন প্রকাশ

২. আবেদন পত্র সংগ্রহ

৩. লিখিত পরীক্ষা

৪. মৌখিক পরীক্ষা

৫. শারীরিক পরীক্ষা

৬. মানসিক পরীক্ষা

৭. রেফারেন্স চেক

৮. সুপারিশ পত্র

৯. নির্বাচনকরণ

১০. চাকুরি যোগদান পত্র প্রদান

করোনা ভাইরাস টিকার পাশ্বপ্রতিক্রিয়া কতটুকো ?

 করোনা ভাইরাস এর ভয়াবহ আক্রমনের কথা আমারা কে না জানি, বিশ্ব জুড়ে এখন এই মহামারি দমনে চলচে তোড়জোর। চলছে টিকা প্রদান কর্মসূচি। করোনা ভাইরাস এর টিকা নিলে কোন পাশ্বপতিক্রিয়া আছে কি না তা জানবার আগে চলুন জেনে নিই ভ্যাকসিন বা টিকা কী?



 টিকা মানুষের দেহকে নির্দিষ্ট কোন একটি সংক্রমণ, ভাইরাস কিংবা রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রস্তুত করা হয় ।  টিকায় মূলত যে বস্তুটির কারণে ওই রোগটি হয় তার একটি নিষ্ক্রিয় বা দুর্বল অংশ থাকে যাকে "ব্লু-প্রিন্ট" বলা হয়।

এই অংশটি দেহে একই রকমের প্রতিক্রিয়া তৈরি করে যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে পরবর্তীতে ওই ভাইরাসের আক্রমণ শনাক্ত করতে সাহায্য করে এবং সেটির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে।

টিকার একটি আদি রূপ আবিষ্কৃত হয়েছিল ১০ম শতকে চীনে। তবে ১৭৯৬ সালের আগে এটি স্বীকৃতি পায়নি। সে বছর এডওয়ার্ড জেনার দেখেন যে, কাউপক্স বা গোবসন্ত রোগের মৃদু সংক্রমণ গুটি বসন্ত রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। তিনি তার এই তত্ত্ব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দুই বছর পর গুটি বসন্তের টিকা আবিষ্কার করেন এবং তখন থেকে ল্যাটিন শব্দ "ভ্যাকা" থেকে ভ্যাকসিন শব্দটির উৎপত্তি হয়। ল্যাটিন ভাষায় ভ্যাকা শব্দটির অর্থ হচ্ছে গরু।

 

করোনা ভাইরাস টিকা :-

কোভিশিল্ড দেয়া হলে মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অ্যান্টিবডি তৈরি করতে শুরু করে এবং যে কোন রকম করোনাভাইরাস দেহে ঢুকলে তাকে আক্রমণ করতে শিখে যায়। টিকা দেবার পর মানবদেহ করোনাভাইরাসের জেনেটিক উপাদানগুলো চিনে নিতে এবং এ্যান্টিবডি ও টি-সেল তৈরি করতে বেশ খানিকটা সময় নেয়। আপনি যদি কোভিড-১৯ এর টিকা নিয়ে থাকেন তাহলে অন্য কোন টিকা নেয়ার আগে কমপক্ষে ১৪ দিন অপেক্ষা করতে হবে। যেহেতু কোভিডের মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে এবং দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হওয়ারও ঝুঁকি রয়েছে তাই আক্রান্ত হোন আর না হোন, টিকা নেয়া উচিৎ। তবে গর্ভবতী নারীরা করোনাভাইরাসের টিকা নিতে পারবেন না।

প্রথম ডোজ নেওয়ার চার থেকে ১২ সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজটি দেয়া হয়।

 

বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস টিকা :-

সাতাশে জানুয়ারি ২০২১  কুর্মিটোলা হাসপাতালের সেবিকা রুনু ভেরোনিকা কস্তাকে কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন প্রদানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হলো বাংলাদেশের করোনাভাইরাস টিকাদান কর্মসূচি।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সে যোগদান করে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ভারতের সিরাম ইন্সটিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি করোনাভাইরাসের টিকা বাংলাদেশে দেওয়া হচ্ছে।

 

করোনা ভাইরাস টিকার পাশ্বপ্রতিক্রিয়া :-

বিশ্বের কোথাও এখনো টিকা নেয়ার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়নি । এখন পর্যন্ত বলা হচ্ছে, কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন একটা নিরাপদ ভ্যাকসিন।

তবে ভ্যাকসিন নেয়ার পরে কারো কারো ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

যেমন ভ্যাকসিন প্রয়োগের জায়গায় ফুলে যাওয়া, ত্বক লাল হওয়া,  সামান্য জ্বর হওয়া, বমি বমি ভাব, মাথা ও শরীর ব্যথা শীতল অনুভূতি, মাথাব্যথা ও ক্লান্তি, অবসাদগ্রস্ততা। তবে এগুলোকে টিকা শরীরে সাথে মানিয়ে যাওয়ার পদ্ধতি বলেই ধরা হয়

প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজনের মধ্যে এই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে

টিকা নেয়ার আগে চিকিৎসককে জানাতে হবে যে আপনার কোন স্বাস্থ্য সমস্যা আছে কিনা বা আপনি কোন রোগের চিকিৎসা নিচ্ছেন কিনা।

যেমন, আগে কোন টিকায় তীব্র এলার্জি দেখা দেয়া, তীব্র জ্বরসহ অসুস্থতা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা, ক্যান্সারের চিকিৎসা চলা, রক্তপাত বা আঘাতের কোন সমস্যা থাকা, গুরুতর অসুস্থতা, গর্ভবতী বা শিশুকে বুকের দুধ পান করাচ্ছে কিনা- এবিষয়গুলো জানা থাকতে হবে। তাহলে ধারণা করা যাবে যে টিকা এই মুহূতে আপনার জন্য ঠিক কি না এবং অতীতে যাদের কোন টিকা নেয়ার পর বড় ধরনের অ্যালার্জি হয়েছে বা কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়েছে, তাদের টিকা নিতে হলে বিশেষ সতর্কতা নিতে হবে।

 

 

•             বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোন টিকাই শতভাগ নিরাপত্তা দিতে পারে না। আর একবার টিকা নিলে কতদিন সুরক্ষা মিলবে সেটি এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আর তাই এখনো পরামর্শ হিসেবে বলা হচ্ছে যে, টিকা নিলেও যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হয়।

•             টিকা নেয়ার কারণে কেউ কোভিডে আক্রান্ত হবে না। কারণ এ পর্যন্ত যে টিকাগুলোকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে তাদের কোনটিতেই জীবন্ত ভাইরাস নেই।

•             টিকা নেয়া লোকেরা কি ভাইরাস ছড়াতে পারে, আপনি হতে পারেন জীবানুর বাহক। আপনি কোন স্থানে স্পর্শ করলে এবং সেখানে যদি ভাইরাস থাকে তাহলে আপনার মাধ্যমে ভাইরাস ছড়াতে পারে। আপনি আপনি সচেতন থাকলে আপনার আশেপাশের মানুষ বেশ নিরাপদে থাকতে পারে।

 

টিকা নেওয়ার পর কি করবেন :-

•             ভ্যাকসিন নেয়ার পর টিকা কেন্দ্রে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন

•             ভ্যাকসিন নেয়ার পর যে কোন শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা বা শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে নির্ধারিত স্বাস্থ্যকর্মী/চিকিৎসকের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করুন।

•             ভ্যাকসিন নেয়ার পরেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বাভাবিক জীবন যাপন করুন।


তথ্যচুরি :-

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের টিকা নেয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করা  হবে, টেলিফোনে এমন প্রস্তাব রেখে অভিনব প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে একটি চক্র।  টিকা রেজিস্ট্রেশনে সহায়তার কথা বলে অনেকের মোবাইল ফোন থেকে ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে, অনেকের মোবাইল থেকে টাকা গায়েব করে দেয়া হয়েছে । কোভিড-১৯ এর টিকা নিবন্ধনের জন্য গ্রাহকের নাম, বয়স, ফোন নম্বর, ঠিকানা, ভোটার আইডি কার্ডের নম্বর ইত্যাদির প্রয়োজন হয়। আপনার ফোনে ওটিপি আসবে, সেটা বললেই নাম নিবন্ধন হয়ে যাবে ।আর যখনই ওটিপি বলে দেন, তখনই তাদের  বিকাশ, নগদ, বা রকেটের অ্যাকাউন্টে টাকা হাওয়া হয়ে যাবে।

পুলিশের পরামর্শ:-

অপরিচিত কাউকে ব্যক্তিগত তথ্য জানাবেন না

অপরিচিত কোন কল, মেসেজ বা ইমেইলে সাড়া দেবেন না

 

তথ্যসুত্র: বিবিসি বাংলা সংবাদ ও অনান্য ওয়েবসাইট।

 

আরব বসন্ত



আরব বসন্ত বিপ্লব নয়, কয়েকদফা গণবিদ্রোহ মাত্র। আরব বসন্ত একটা জাগরণের নাম। সেই জাগরণ চেতনার রাজ্যে। এটাই আরব বসন্তের এক মস্ত ইতিবাচক দিক। সেই চেতনা রাজনীতিগতভাবে যত শাণিত হবে এবং সুগঠিত রূপ নেবে ততই তা বিপ্লবের সম্ভাবনায় অগ্নিগর্ভ হবে।

সে জাগরণের জোয়ারে ভেসে গিয়েছিল স্বৈরশাসকদের লৌহ-আসন। আরবেরা স্বপ্ন দেখেছিল‍— বেকারত্ব, ঘুষ, দুর্নীতি, নিপীড়ন, বঞ্চনার অবসান ঘটে এবার গণতন্ত্র আসবে। দুর্বিনীত শাসকদের যূপকাষ্ঠে আর পাঁঠার বলি হবে না সাধারণ মানুষ।

 

আরব বিশ্বকে আমূল বদলে দেয়া আন্দোলনের কথা মাথায় রেখেই কি নীতিনির্ধারকদের এমন সতর্কতা। ২০১০ সালের শুরু থেকে আরব বিশ্বে গণবিপ্লবের ঝড়কে পশ্চিমা মিডিয়া আরব বসন্ত হিসেবে আখ্যায়িত করে।

২০১০ সালের ১৭ ডিসেম্বর নিজের গায়ে আগুন জ্বেলে বিপ্লবের মশাল জ্বেলে দেন তিউনিসিয়ার ফেরিওয়ালা বাওয়াজিজি। ঘুষ, দুর্নীতি, বেকারত্ব, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে তা ছিল এক জ্বলন্ত বিদ্রোহ। এই বিদ্রোহের আগুন আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এসব দেশ হচ্ছে তিউনিসিয়া, মিসর, লিবিয়া, ইয়েমেন, বাহরাইন ও সিরিয়া। বিদ্রোহের সে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় স্বৈরশাসক জয়নাল আবেদিন বেন আলীর ক্ষমতার আসন। ২০১১ সালের ১৪ জানুয়ারি পদত্যাগে বাধ্য হন তিনি। কিন্তু বেন আলীকে হটিয়েও পাঁচ বছরে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি দেশের সার্বিক পিরিস্থিতি।

তিউনিসিয়ায় বিপ্লবের সফল পরিণতি উজ্জীবিত করে হোসনি মোবারকের স্বৈরশাসনে নিষ্পেষিত মিসরের সাধারণ মানুষকে। ২০১১ সালের ২৫ জানুয়ারি সে দেশেও বিপ্লবের গণজাগরণ সৃষ্টি করে। কাররোর তাহরির স্কয়ার পরিণত হয় মুক্তিকামী মানুষের জনসমুদ্রে।  ১৮ দিনের টানা বিক্ষোভের পরিণতিতে প্রায় ৮৫০ জন মানুষের রক্ত ঝরিয়ে এই বিপ্লবও সাফল্যের মুখ দেখে। ১১ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনীর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন মোবারক।

 

পরবর্তী সময়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ইসলামপন্থী ব্রাদারহুড ক্ষমতায় এলেও তা বেশি দিন টেকসই হয়নি। মূলত ব্রাদারহুড়-সমর্থিত মোহাম্মদ মুরসির ক্ষমতালিপ্সাই তাঁর পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ২০১৩ সালে সেনাপ্রধান জেনারেল আবদুল ফাত্তাহ আল সিসি ক্ষমতা কেড়ে নেন মুরসির কাছ থেকে। এখন সিসির বজ্রশাসনে আগের মতোই লৌহবন্ধনীর ভেতর কাটছে মিসরীয় মানুষরে জীবন। ২০১৪ সালে নতুন সংবিধান দেশের সেনাবাহিনীর ক্ষমতা বাড়িয়েছে।  মোবারকের চেয়েও কঠোর হস্তে দেশ শাসন করছেন সিসি। বিক্ষোভ করা দূরে থাক, কারও কোনো টুঁ শব্দটি করার সাহস নেই।

ইয়েমেনের অবস্থাও টালমাটাল। আরব বসন্তের জেরে ২০১১ সালের শেষ দিকে দীর্ঘ সময়ের স্বৈরশাসক আলী আবদুল্লাহ সালেহ পদত্যাগ করলেও সেখানে স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে দেশটিতে সংখ্যালঘু সুন্নি শাসকদের বিরুদ্ধে সংখ্যাগরিষ্ঠ শিয়ারা বিদ্রোহ-বিক্ষোভ করে আসছে।

 

আফ্রিকার দেশ লিবিয়ায় আরব বিশ্বের প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। সেখানে বিক্ষোভ ছিল মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিদেশের সামরিক হস্তক্ষেপ বিভিন্ন দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করেছে। সন্ত্রাস বাড়িয়েছে।

 

গণবিক্ষোভের শুরু মিশরে; এরপর তা লিবিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেন সহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে যায়। প্রথমে মিশরে প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারকের পতন হয়। পরে লিবিয়ায় মুয়াম্মর আল-গাদ্দাফি জামানার অবসান হয়। আরব বিশ্বের এই গনঅভ্যূত্থানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং এর ইউরোপীয় ন্যাটোভুক্ত সহচর রাষ্ট্রগুলো অস্ত্র সরবরাহ করে এবং সরাসরি আঘাত হেনে ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রনায়কের পতন ঘটায়। এক হিসাবে বলা হয় আরব বসন্তের ফলে মাত্র পৌনে দুই বছরে লিবিয়া, সিরিয়া, মিশর, তিউনিসিয়া, বাহরাইন ও ইয়েমেনের গণ-আন্দোলনের ফলে মোট দেশজ উৎপাদনের ক্ষতি হয়েছে দুই হাজার ৫৬ কোটি ডলার। ডিসেম্বর ২০১০ থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় যে গণ বিদ্রোহ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন হচ্ছে তা ইতিহাসে নজিরবিহীন। এ পর্যন্ত আলজেরিয়া, ইয়েমেন, বাহরাইন, মিশর, ইরান, জর্ডান, লিবিয়া, মরক্কো, তিউনিসিয়ায় বড় ধরনের বিদ্রোহ হয়েছে এবং ইরাক, কুয়েত, মৌরিতানিয়া, ওমান, সৌদি-আরব, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়াতে ছোট আকারের ঘটনা ঘটেছে। এসব বিদ্রোহে প্রতিবাদের ভাষারূপে গণবিদ্রোহের অংশ হিসেবে হরতাল, বিক্ষোভ প্রদর্শন, জনসভা, র‍্যালি প্রভৃতি কর্মসুচী নেয়া হয়।

 

দেশব্যাপী সাংগঠনিক কাজ, যোগাযোগ এবং রাষ্ট্রীয় প্রচারণার থেকে জনগণের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতে ফেসবুক, টুইটারের মত সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ব্যবহৃত হয়। এরই মধ্যে তিউনিসিয়া, মিশরে বিদ্রোহের ফলে শাসকের পতন হয়েছে বলে এখানে তা বিপ্লব বলে অভিহিত করা হচ্ছে। বিভিন্ন কারণে এমন বিদ্রোহের সূচনা হয় যার মধ্যে সরকারি দুর্নীতি, স্বৈরতন্ত্র, মানবাধিকার লঙ্ঘন, বেকারত্ব এবং চরম দারিদ্র্যের অভিযোগের পাশাপাশি বিশাল যুবসমাজের অংশগ্রহণও অণুঘটকরূপে কাজ করেছে। এর পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে খাদ্যমূল্য বৃদ্ধি এবং খরার প্রকোপও বড় কারণ।

 

১৮ ডিসেম্বর তিউনিসিয়ায় মোহাম্মদ বোয়াজিজির পুলিশে দুর্নীতি ও দুর্ব্যবহারে প্রতিবাদে আত্মাহুতির মাধ্যমে বিদ্রোহ শুরু হয়। তিউনিসিয়ার বিপ্লব সফল হওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য দেশেও আত্মাহুতির কারণে অস্থিরতা শুরু হয় যার ফলে আলজেরিয়া, জর্ডান, মিশর ও ইয়েমেনে বিদ্রোহ শুরু হয়।

 

তিউনিসিয়ায় জেসমিন বিপ্লবের ফলে ১৪ জানুয়ারি শাসক জেন এল আবেদিন বেন আলির পতন ঘটে এবং তিনি সৌদি আরবে পালিয়ে যান। ২৫ জানুয়ারি থেকে মিশরে বিদ্রোহ শুরু হয় এবং ১৮ দিনব্যাপী বিদ্রোহের পরে ৩০ বছর ধরে শাসন করা প্রেসিডেন্ট মুবারক ১১ ফেব্রুয়ারি পদত্যাগ করেন। একই সাথে জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহ নতুন প্রধানমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করেন; ইয়েমেনের রাষ্ট্রপতি আলি আব্দুল্লাহ সালেহ ঘোষণা দেন যে তিনি ২০১৩ সালের পর আর রাষ্ট্রপতি থাকবেন না যা তখন ৩৫ বছরের শাসন হবে।

 

বর্তমানে লিবিয়ার শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে পতনের চেষ্টা হচ্ছে এবং সুদানের রাষ্ট্রপতি আলি আব্দুল্লাহ সালেহ ঘোষণা দিয়েছেন তিনি ২০১৫ এর পর নির্বাচনে অংশ নেবেন না ।এরূপ স্বতস্ফূর্ত গণবিক্ষোভ এবং এসব দেশের ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে তা আজ গোটা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণের কারণ।


আরব বিশ্বে গণবিক্ষোভের শুরু মিশরে। মাত্র ১৭ দিনে পতন হয় প্রেসিডেণ্ট হোসনি মোবারকের ৩০ বছরের প্রতাপশালী শাসন। ২০১০-এর শুরুতে ২৫শে জানুয়ারি প্রথম গণবিক্ষোভ ছিল মিশরীয় জনগণের দীর্ঘকালের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহি:প্রকাশ। ১৭ দিন গণআন্দোলনের পর ১১ই ফেব্রুয়ারি হোসনি মোবারকের পতন হয়। ঐ দিন মিশরের সমস্ত মানুষ স্বৈরাচারি হোসনি মোবারকের অপসারণের দাবিতে গণবিক্ষোভে ফেটে পড়লে নব নিযুক্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট ওমর সোলাইমান টেলিভিশন ভাষণে হোসনি মোবারকের ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াবার ঘোষণা দেন।

 

প্রেসিডেন্টের পদ থেকে হোসনি মোবারকের সরে দাঁড়ানোর খবর মিশরবাসী উল্লাসে ফেটে পড়ে। ১৯৮১ সালে হোসনি মোবারক ক্ষমতায় আসার পর থেকে মিশরে কার্যত সেনাবাহিন সমর্থিত একনায়কতন্ত্র সূচনা হয়। পশ্চিমা দেশগুলো যারা শুরু থেকেই হোসনি মোবারককে নি:শর্তভাবে সমর্থন দিয়ে আসছিল, ক্ষমতা থেকে মোবারকের সরে দাঁড়ানোর পদক্ষেপকে স্বাগত জানায়। মোবারক ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সামরিক উচ্চ পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন তানতাভি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন। মূলত মিশরীয় সেনাবাহিনী মোবারকের পক্ষ ত্যাগ করে জনগণের পক্ষাবলম্ববন করার সিদ্ধান্ত নিলে দ্রুত পট পরিবর্তন ঘটে।

 

মিশরে হোসনি মোবারকের পতনকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা মনে হয়েছিল। কিন্তু ২০১১-এর শুরুতে আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতি তিউনিশিয়ার গণঅভ্যূত্থানের ধারাবাহিকতাতেই যেন লিবিয়া, সিরিয়া, বাহরাইন প্রভৃতির গণ্যঅভ্যূত্থান। তিউনিশিয়ায় গণঅভ্যূথানে ২৪ বছরের একচ্ছত্র রাজত্বের "জাইন-এল আবেদিন বেন আলীর" পতন ঘটে। তিনি সৌদী আরবে পালিয়ে গিয়ে জীবন রক্ষা করেন।

 

লিবিয়ায় গণবিক্ষোভ চলে প্রায় ৯ মাস। ২০১১-এর ফেব্রুয়ারিতে গাদ্দাফিবিরোধী বিক্ষোভ ও লড়াই শুরু হয়। ১৭ই ফেব্রুয়ারি ২০১১ তারিখে দ্বিতীয় দেশের বৃহত্তম শহর বেনগাজিতে গাদ্দাফিবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। বেনগাজিতে একটি থানার কাছে শত শত জনতা গাদ্দাফিবিরোধী বিক্ষোভ শুরু করে। এতে সহিংসতায় বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়। এ দিনটিকে ‘দ্য ডে অব রিভোল্ট’ বলা হয়। ২০ ফেব্রুয়ারি বেনগাজি শহর দখল করে নেয় বিদ্রোহীরা। এতে গাদ্দাফির অণুগত বাহিনী ও বিরোধীদের লড়াইয়ে কয়েক'শ মানুষ নিহত হয়।

 

এর পরও গাদ্দাফির অণুগত বাহিনী বেনগাজি পুনরুদ্ধারে বেশ কয়েক সপ্তাহ লড়াই চালিয়ে যায়। তবে শেষ পর্যন্ত পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মার্চের ১০ তারিখে, গাদ্দাফি বাহিনী ব্রেগা শহরে বোমাবর্ষণ শুরু করে। বিদ্রোহীদের কাছ থেকে জায়িয়াহ ও বিন জাওয়াদ শহর পুনরুদ্ধার করে গাদ্দাফির সেনারা। এরপর ব্রেগা ও আজদাবিয়াহ শহরে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল লড়াই চলে। ১৯শে মার্চ তারিখে পশ্চিমা বিশ্ব গাদ্দাফি পতনের লক্ষ্যে জন্য আক্রমণ চালায়। প্রথমে লিবিয়ায় বোমা নিক্ষেপ শুরু করে সামরিক জোট ন্যাটো। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বিতর্কের পর লিবিয়ায় নো ফ্লাই জোন কার্যকরের প্রস্তাব পাস হয়।

 

১৫ সদস্যের পরিষদে স্থায়ী দুই সদস্যরাষ্ট্র রাশিয়া, চীনসহ পাঁচটি সদস্যরাষ্ট্র ভোটের সময় অনুপস্থিত থাকে। ১৫ই মে তারিখে গাদ্দাফি সাগর তীরের শহর মিসরাতা থেকে তাঁর বাহিনী প্রত্যাহার করে নেন। এর আগে কয়েক সপ্তাহ শহরটি অবরোধ করে রাখা হয়। সেখানে যুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকসহ উভয় পক্ষের বহু সেনা হতাহত হয়। ১৫ই আগস্টে বিদ্রোহীরা রাজধানী ত্রিপোলির দিকে অভিযান শুরু করে। দ্রুত ত্রিপোলির ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণের ঘরান এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয় বিদ্রোহীরা। ২১শে আগস্ট তারিখে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে ঢুকে পড়তে সক্ষম হয় বিদ্রোহী বাহিনী। রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে “গ্রিন স্কয়ারে” পৌঁছে বিদ্রোহীরা। তারা ওই স্কয়ারের নাম পরিবর্তন করে “শহীদ চত্বর” নাম দেয়।

 

দুদিন পর ২৩শে আগস্ট গাদ্দাফির আবাসস্থল “বাব আল-আজিজিয়া”র পতন। তবে সেখানে গাদ্দাফি বা তাঁর পরিবারের কাউকে খুঁজে পায়নি বিদ্রোহীরা। সেপ্টেম্বর মাসের ১১ তারিখে নাইজার জানায়, গাদ্দাফির ছেলে "সাদি গাদ্দাফি" সে দেশে প্রবেশ করেছে। ১৬ই সেপ্টেম্বর তারিখে লিবিয়ার একমাত্র বৈধ কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিদ্রোহীদের গঠিত “ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিল”কে (এনটিসি) সমর্থন দেয় জাতিসংঘ। ১৭ই অক্টোবর গাদ্দাফির শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত “বনি ওয়ালিদ” দখল করতে সক্ষম হয় বিদ্রোহী বাহিনী। পরদিন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এক ঝটিকা সফরে লিবিয়ায় যান। তিনি বিদ্রোহীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। অক্টোবর ২০: সিরত শহরে লড়াইয়ে নিহত হন গাদ্দাফি।

 

যেসব দেশে বিক্ষোভ চলছে :-

১.আলজেরিয়া      ২.বাহরাইন           ৩.জিবুতি              ৪.মিশর       ৫.ইরান ৬.ইরাক             ৭.জর্ডান               ৮.কুয়েত              ৯.লিবিয়া ১০.মৌরিতানিয়া        ১১.সিরিয়া              ১২.সোমালিয়া       ১৩.সুদান  ১৪.তিউনিসিয়া        ১৫.ইয়েমেন          ১৬.মরক্কো           ১৭.পশ্চিম সাহারা ১৮.ওমান              ১৯.সৌদি আরব

 

 

মোহাম্মদ বোয়াজিজির আত্মাহুতির পরে আরব বিশ্বে আরো অনেকগুলো আত্মাহুতির ঘটনা ঘটে। আলজেরিয়ায় মহসিন বৌটারফিফ শহরের মেয়রের সাথে একটি আলোচনায় ব্যর্থ হবার পর ১৩ জানুয়ারি, ২০১১ আত্মাহুতি দেন এবং ২৪ জানুয়ারি, ২০১১ মারা যান। মিশরে আব্দোউ আব্দেল-মোনেম জাফর ১৭ জানুয়ারি মিশরের সংসদের সামনে আত্মাহুতি দেন। সৌদি আরবে একজন ৬৫ বছর বয়সী অজ্ঞাত ব্যক্তি ২১ জানুয়ারি আত্মাহুতি দেন ও মারা যান ।


কারণ :-

স্বৈরাচার বা চরম রাজতন্ত্র, মানবাধিকার লঙ্ঘন, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দুর্নীতি         ( উইকিলিকসের মাধ্যমে ফাঁস হওয়া বিভিন্ন ফাইল ), দুর্বল অর্থনীতি, বেকারত্ব, চরম দারিদ্র্য ও শিক্ষিত হতাশাগ্রস্থ যুবসমাজ ইত্যাদি কারণে এইসব এলাকায় বিক্ষোভের সূচনা হয়। এছাড়াও এসব দেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদ মুষ্টিমেয় কয়েকজনের হাতে থাকায় তারা কয়েক দশক ধরে ক্ষমতায় ছিল, সম্পদের সুষম বণ্টন হয় নি, খরা ও খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আন্দোলনের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়।

ইন্টারনেট দিয়ে শুরু করা আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীরা অনেকেই পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত যেখানে স্বৈরতন্ত্র ও রাজতন্ত্রকে অচল বলে মনে করা হয়। এওসব দেশে সাম্প্রতিক কালে জীবনযাত্রার মান, শিক্ষার হার বৃদ্ধির কারণে মানব উন্নয়ন সূচক এর উন্নতি হয়েছে কিন্তু তার সাথে সাথে সরকারের সংস্কার হয় নি। তিউনিসিয়া ও মিশরের অর্থনীতি তেলের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল ছিল না, যার ফলে সরকার বড় মাপের বিদ্রোহ দমনে ব্যর্থ হয়।


নিউইয়র্কে 'আরব বসন্ত'

২০১১ সালের, সেপ্টেম্বর মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে 'ওয়াল স্ট্রিট দখল করো' আন্দোলন শুরু হয়। নিউইয়র্ক শহরে শুরু হয়ে এই আন্দোলন শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শতাধিক শহরেই নয়, ইউরোপের বিভিন্ন রাজধানী ও গুরুত্বপূর্ণ শহর এবং বিশ্বের অন্যত্রও ছড়িয়ে পড়েছে। এই আন্দোলনের আওয়াজ হল, 'আমরাই ৯৯%', 'পুঁজিবাদ ধ্বংস হোক'। নিউ ইয়র্কের এই 'ওয়াল স্ট্রিট দখল করো' গণআন্দোলনকে নিউ ইয়র্কের আরব বসন্ত হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।